চোখের সাজে উইং আইলাইনার

0 comments

চোখের আবেদন এড়িয়ে যাবার ক্ষমতা বিধাতা বুঝি কাউকেই দেননি। এই চোখকে আরও সুন্দর এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে চোখে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন মেকআপ, চোখের সাজে যুগে যুগে আসে ভিন্নতা।

আইলাইনার লাগানোর বিভিন্ন স্টাইলের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং অনবদ্য ডিজাইন হলো ‘উইং আইলাইনার’।

 

চোখের উপরের পাতায় টেনে এঁকে লাইনার দেয়াকে উইংড আইলাইনার বলে। পাখির পাখার মতো সোজা এবং টানা হয় বলে একে উইং (Wings) লাইনার বলা হয়।

পদ্ধতি ১

মেকআপ ব্রাশ সেটে এক ধরনের বিশেষ ব্রাশ থাকে। একে এঙ্গেলড ব্রাশ বলা হয়। এঙ্গেলড ব্রাশের শেপ সাধারণত চিকন এবং কোণাকুণি করে কাটা থাকে।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন এই ব্রাশটিরই শেপ এমন কেন? এর কারণ হলো এঙ্গেলড ব্রাশ দিয়ে খুব সহজেই আইলাইনার দেয়া যায়।

প্রথমে এঙ্গেলড ব্রাশটিতে আইলাইনার লাগিয়ে নিন। এবার প্রথমে চোখের উপর দিকে কাত করে ধরে এবং পরের বার উপরের পাতা থেকে নিচের দিকে কাত করে ধরে উইং এঁকে নিন। ব্রাশের সাহায্যে মাঝখানের অংশটুকু লাইনার দিয়ে ভরে ফেলুন।

এরপর চোখের ভেতরের কোণা থেকে বাইরের এই উইং এর দিকে টেনে লাইনার দিন। ব্যাস! হয়ে গেলো উইংড আইলাইনার।

এটি আপনি আপনার ইচ্ছামতো বড় বা ছোটো করে টানতে পারেন। তবে আইভ্রু এর বাইরের অংশ বরাবর উইংস টানলে চোখ অনেক বেশি সুন্দর দেখাবে।

পদ্ধতি ২

একটু ধৈর্য ধরে আঁকতে পারলে আপনি কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়াই উইংড আইলাইনার টানতে পারবেন। এর জন্য সবচেয়ে ভালো হয় ম্যাট আইলাইনার ব্যবহার করতে পারলে।

এটি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে না এবং আপনি চোখ খোলা রেখেই আইলাইনার লাগাতে পারবেন নিশ্চিন্তে।

চোখের পাতায় স্বাভাবিক ভাবেই আইলাইনার টেনে নিন। এবার হাতের কনুইয়ের নিচে একটি ছোটো চেয়ার বা টুলের সাহায্যে ভর দিন। এতে আপনার হাত স্থির থাকবে।

এখন চোখের বাহিরের দিকে একটি করে ফোঁটা এঁকে যান। কাঙ্ক্ষিত দৈর্ঘ্য পর্যন্ত এভাবেই আঁকুন। সবশেষে ফোঁটাগুলো দাগ টেনে মিলিয়ে নিন।

পদ্ধতি ৩

আমাদের সবার বাসাতেই স্কচটেপ থাকে। বইখাতা, কাগজ-কলম কিংবা ঘরের দেয়ালে বিভিন্ন জিনিস লাগাতে স্কচটেপের বহুল ব্যবহার রয়েছে।

কেমন হয় যদি উইংড লাইনারের কাজেও স্কচটেপ ব্যবহার করা যায়? বিশ্বাস হচ্ছে না? চলুন তবে শিখে নেয়া যাক আরও একটি পদ্ধতি।

প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আয়নার দিকে তাকান। এবার চোখের নিচের অংশ যেখানে শেষ হয়েছে সেখান থেকে চোখের উপরের পাতার দিকে স্কচটেপ লাগিয়ে নিন।

কোণাকুণি ভাবে আইভ্রু এর কাছ পর্যন্ত স্কচটেপ লাগান। তারপর চোখে স্বাভাবিক নিয়মে আইলাইনার লাগিয়ে স্কচটেপের বাহির থেকে উইংস এঁকে নিন।

আঁকা শেষ হলে স্কচটেপ তুলে ফেলুন। দেখুন্ন কী চমৎকার আইলাইনার টানা হয়েছে!

পদ্ধতি ৪

সাজগোজের জন্য এবার আপনাকে যেতে হবে রান্নাঘরে। না,না! রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে সাজার কথা বলছি না। বরং বলছি রান্নাঘর থেকে একটি চা চামচ নিয়ে আসুন এবং আয়নার সামনে দাঁড়ান।

একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন চা চামচের লম্বা অংশটি হালকা একটু বাঁকানো থাকে। অই অংশটি চোখের পাতায় ধরলেই দেখবেন উইংসের আকার হয়ে গিয়েছে।

এভাবে উইংসের একটি লাইন টানুন। তারপর চামচ উলটে ওভাল আকৃতির অংশটি ব্যবহার করুন চোখের উপরের পাতার জন্য। দুইয়ে মিলে হয়ে যাবে পারফেক্ট উইংস!

পদ্ধতি ৫

রাস্তাঘাটে কতজনের সাথেই তো দেখা হয়। দু-একটা ভিজিটিং কার্ড তো আমাদের সবার কাছেই কম-বেশি থাকে। অপ্রয়োজনীয় কোনো ভিজিটিং কার্ডকে এই বাহানায় কাজে লাগিয়ে ফেলুন!

এর জন্য আপনাকে হতে হবে আঁকিয়ে। স্কেলের মাধ্যমে কার্ডে ৫ সে.মি জায়গা নির্দিষ্ট করুন। এবার অই অংশ থেকে উইংসের মত করে দাগ টানুন।

কেঁচি দিয়ে কেটে চোখের ছাঁচে কার্ড কেটে ফেলুন। এরপর যখন প্রয়োজন হয় এই ছাঁচ ব্যবহার করে আইলাইনার টানুন। প্রতিবার একই মাপে চোখ আঁকার এই রহস্য আর কেউ না জানুক!

বোনাস পদ্ধতি

ভিজিটিং কার্ডের মতো ব্যবহার করতে পারেন আপনার এটিএম কার্ডটিও। কিন্তু এটিএম কার্ড কাটার কোনো প্রয়োজন হবে না।

এটি শক্ত কার্ড হওয়ায় আপনি যেভাবেই রাখুন না কেন, কার্ড নড়াচড়া করবে না। কার্ডের শেষের কিছু অংশে আইলাইনার লাগিয়ে নিন।

এবার কোণাকুণি করে কার্ড চেপে ধরুন চোখের কোণায়। এই কোণাটা আপনি নিজেই আন্দাজ করে নিতে পারবেন।

এভাবে দুইবার চেপে কার্ড আলাদা করে মুছে ফেলুন এবং আইলাইনারের ব্রাশ দিয়ে ভেতরটা ভরাট করে দিন। হয়ে গেলো এক মিনিটেই উইংড লাইনার!

কিছু পরামর্শ

• একদম বিগিনার লেভেলে লিকুইড আইলাইনারে আপনি অভ্যস্ত নাও হতে পারেন। তাই পছন্দের তালিকায় রাখুন ম্যাট বা জেল আইলাইনার।

• বোতলে থাকা আইলাইনারের চেয়ে পেন্সিল লাইনারে কাজ করা বেশি সহজ।
• উইংড লাইনার যে কোনো জায়গায় এবং যে কোনো অনুষ্ঠানে লাগানো যায়। তাই শিখে নিন উইংড লাইনারের বিভিন্ন ধরন।

• আইলাইনার লাগানোর সময় যদি এটি ছড়িয়ে যায় বা আঁকা ভুল হয় তাহলে আঙ্গুলের সাহায্যে একটু লিপবাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি নিয়ে চোখের পাতায় লাগান এবং তুলা দিয়ে আলতো করে ঘষে তুলে ফেলুন।

পানিতে ভিজিয়ে কাপড় ঘষলে চোখে আঘাত লাগতে পারে। এছাড়াও আপনি ব্যবহার করতে পারেন মেকআপ রিমুভার টাওয়েল। এটি আপনার ত্বকের প্রতি দারুন যত্নশীল।

The cookie settings on this website are set to 'allow all cookies' to give you the very best experience. Please click Accept Cookies to continue to use the site.
You have successfully subscribed!
This email has been registered