মানসিক চাপ মুক্ত জীবনের জন্য কি কি করবেন?

0 comments

পৃথিবীতে কিছু কমন সমস্যা রয়েছে যাতে একবার হলেও কেউ না কেউ ভুগেছেন। এমনই একটি সমস্যা হলো ‘স্ট্রেস’ বা মানসিক চাপ।

শুধুমাত্র ইউএসএ তেই প্রায় ৭০% মানুষ মানসিক চাপে ভোগ

 

আবার এমন কোনো কারণে হয়তো স্ট্রেস হচ্ছে যেটা কাউকে খুলে বলতে পারছেন না।

স্ট্রেস মাঝেমাঝে অকারণেই হয়।হয়তো আপনার দুশ্চিন্তার কোনো কারণই নেই, তবুও মনে হয় যেন বুকে পাথরসম ভারি কোনো কষ্ট চেপে আছে। 

তাই আজকের আলোচনায়  থাকছে মানসিক চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার কিছু উপায় যা দিয়ে আপনি নিজেই নিজেকে প্রফুল্ল  রাখতে পারবেন এবং মানসিক জোর বাড়াতে পারবেন।

এক্সারসাইজ

এক্সারসাইজ বা শরীরচর্চা আপনার মানসিক চাপ মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। শরীরে ক্লান্তি থাকলে মনে শান্তি আসেনা এমন কথা প্রচলিত থাকলেও এই ক্ষেত্রে ব্যাপারটা  একদমই ভিন্ন।

আপনি যখন ব্যায়াম করবেন তখন শরীরে কিছু হরমোন নিঃসৃত হয় (যেমন এনডরফিন্স) যেগুলো আপনার মুড উন্নত করে এবংমনপ্রফুল্ল থাকে। 

এছাড়া শরীরচর্চা করলে ঘুম ভালো হয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।শরীরচর্চায় সেই সমস্যা দূরহয়।

ব্যায়ামের আরও একটি ভালো দিক হলো এটি খুব সহজেই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে 
তোলে।

ভেষজ পথ্য গ্রহন

যেমন, ওমেগা থ্রি-ফ্যাটি এসিড, অশ্বগন্ধা, গ্রিন টি, ক্যামোমাইল টি, কাভাকাভা ইত্যাদি সমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে মানসিক বিশ্রাম হয়।

মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হবার জন্য বাজারে যে সব ঔষধ পাওয়া যায়, সেগুলো না কিনে বরং কিছু ভেষজ পথ্য গ্রহণ করে দেখতে পারেন।

তবে ইতোমধ্যেই যদি আপনার কোনো অসুস্থতার  জন্য কোনো ঔষধ চালু থাকে তাহলে
এই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবার আগে আপনার চিকিৎসকের সাথে কনসাল্ট  করে নিতে পারেন।

মোমবাতি জ্বালান

একটু আজব লাগতে পারে এটা পড়ে যে, মোমবাতির সাথে মানসিক চাপের সম্পর্ক আছে। আসলে কিছু এসেনশিয়াল অয়েলসমৃদ্ধ মোমের গন্ধে মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়।

সেই জন্যই মোমবাতি জ্বালানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে  আপনি বেছে নিতে পারেন-
• ল্যাভেন্ডার
• গোলাপ
• বারগামোট
• রোমান ক্যামোমাইল
• চন্দনকাঠ
• কমলা

এই ধরনের চিকিৎসাকে বলা হয় ‘অ্যারোমা থেরাপি’।

বিশেষ কিছু গবেষণা থেকে জানা  যায় অ্যারোমা থেরাপি স্ট্রেস রিলিফের বিশেষ চিকিৎসা হিসাবে বহুল জনপ্রিয়। কারণ কোন রকম বাড়তি খরচ এবং শারীরিক কোন সংযুক্তি  ছাড়াই এই চিকিৎসা হয়ে থাকে।

ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দিন

স্ট্রেস বাড়তে থাকলে যেন চা-কফি খাওয়া বেড়ে যায় অনেক বেশি। প্রতিটি  চুমুকে মনে একটু একটু করে প্রশান্তি আসে।

কিন্তু সত্যিকার অর্থে চা, কফি, এনার্জি ড্রিংক্স, চকলেট ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে  ক্যাফেইন থাকে এবং ক্যাফেইন গ্রহণে তেমন কোন লাভ হয় না।

যদিও কফির কিছু উপকারী দিক রয়েছে, তবুও সীমিত পরিমাণে কফি পান করাই ভালো।

লিখুন

কি লিখবেন? লিখবেন সেই সব ঘটনা গুলো যেগুলো আপনার জীবন বদলে দিয়েছে।

প্রতিদিনের ছোট ছোট  ভালো লাগার মতো ঘটনা, কিছু স্মৃতি যা মনে পড়লে আপনার ভালো লাগে অথবা বানাতে পারেন একটি ‘ধন্যবাদ’ খাতা। এই খাতায় আপনি প্রতিদিন  কাউকে না কাউকে ধন্যবাদ দিবেন।

হয়তো কেউ একজন বাসে আপনাকে বসার জায়গা ছেড়ে দিয়েছে, হয়তো কেউ আজ আপনার হাত থেকে পড়ে যাওয়া খাতাপত্র তুলে দিয়েছে।

যেদিন কাউকেই ধন্যবাদ দেবার মতো খুঁজে পাবেন না সেদিন বিধাতাকে ধন্যবাদ জানাতে পারেন জীবনে আরেকটি সকাল দেয়ার জন্য।

হাসুন

মনে কষ্ট থাকলে হাসা খুব একটা সহজ কাজ নয়। তবুও চেষ্টা করুন। কমেডি কোন  মুভি বা গল্পের বইয়ের সাহায্য নিতে পারেন বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পারেন।

হাসলে বুক ভরে অক্সিজেন প্রবেশ করে বলে মানসিক চাপ হ্রাস পায়। 

পরিবারের সাথে সময় কাটান

মানসিক চাপ অনেক বেড়ে গেলে কারও সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। মনে হয় সারাদিন দরজা বন্ধ করে বসে থাকতে অথবা একা থাকতে। 

কিন্তু এই সময় করা উচিত ঠিক উল্টোটা। পরিবারের সবাইকে সময় দিন। তাদের সারাদিনের সময় কেমন গেল তা শুনুন।  আপনার নিজেরও কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।

বিভিন্ন  জরিপে জানা যায় যারা নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকেন এবং নিজের মধ্যে আবদ্ধ থাকেন তাদের মানসিক চাপ বেশি হওয়া এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার সংখ্যাই বেশি। 

না বলতে শিখুন

জীবনের সমস্ত কিছু আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। কিন্তু এমন কিছু ব্যাপার  আছে যেগুলো আপনার মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে এবং এগুলো আপনার নিয়ন্ত্রণের মাঝেও আছে। আপনি ইচ্ছে করলেই এগুলো পরিবর্তন করতে পারেন।

তাই এগুলো থেকে মুক্তি পেতে একটা কার্যকরী পদ্ধতি হচ্ছে এই ব্যাপারগুলো কে  আর আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না দেয়া অর্থাৎ সহজ কথায় সরাসরি না বলা।

এমন অনেক দায়িত্ব  আপনার জীবনে চলে আসতে পারে যেগুলো আপনার জন্য সহজ নয় এবং এগুলো সামলে নেয়াটাও অসম্ভব বা খুব কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।

তাই বিবেচনা করে দেখুন, আপনি কোন দায়িত্বগুলো  সহজেই পালন করতে পারবেন এবং কোনগুলো পারবেন না। যেগুলো পারবেন না সেগুলো কে সরাসরি না বলুন। 

দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে চলুন

আপনার মানসিক চাপগুলোর নিয়ন্ত্রণ  আপনার নিজের মুঠোর মাঝে  নেয়ার আরেকটি উপায় হচ্ছে আপনার দীর্ঘ সময়ব্যাপী কাজগুলো এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করুন।

ঢিমেতালের  কাজগুলো আপনার উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং আপনাকে অলস করে তুলতে পারে।

পাশাপাশি এটি আপনার মানসিক চাপ বৃদ্ধি করতে পারে এবং আপনাকে শারীরিক  ও মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলতে পারে।

তাই আপনার প্রায়োরিটি  লিস্ট ঠিক করুন, কম সময়ের কাজগুলো আগে রেখে সেগুলো শেষ করে বাড়তি সময়টুকু ওই দীর্ঘ মেয়াদী  কাজের পিছনে ব্যয় করুন, কারণ হাজার হলেও কোন কাজই ছোট  নয় বা ফেলে রাখা উচিত নয়। 

ইয়োগা ক্লাসে যোগ দিন

ইয়োগা হচ্ছে সব বয়সের এবং সব ধরণের মানুষের কাছে মানসিক চাপ মুক্তির জনপ্রিয়  একটি উপায়।

ইয়োগার ব্যায়ামগুলো আলাদা আলাদা ধরণের হলেও সবগুলোর একটিই উদ্দেশ্য;  আপনার মন এবং শরীরের মেল বন্ধন তৈরি করা।

ইয়োগার প্রাথমিক  ধাপ হচ্ছে শরীর এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা। শ্বাস-প্রশ্বাসের কিছু ব্যায়াম দ্বারা অতি দ্রুত মানসিক চাপ কমিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে ইয়োগা করলে আপনার মনের প্রশান্তি বৃদ্ধিপাবে। 

আপনি নিজের মানসিক চাপগুলোকে আরো ইতিবাচক ভাবে  নিতে পারবেন এবং চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিক শক্তিও পাবেন।

শুধু তাই নয়, ইয়োগা আপনার শরীরের আরো অনেক উন্নতি সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রশান্তিমূলক মিউজিক শুনুন

নিচুতাল এবং লয়ের মিউজিক সত্যিকার অর্থে আপনার মনকে শান্ত করে তুলতে পারে। গান এবং ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক আপনার মনের চাপকে দূরীভূত করতে গুরুত্বপূর্ণ  পদক্ষেপ রাখতে পারে।

শুধু গান শুনলেও শরীরের রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দন দুটোই কমে যায়। তাই মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেলে আপনার পছন্দের গান শুনে দেখতে পারেন একটু মানসিক ভাবে  ভালো লাগে কিনা। 

আবার অনেকে প্রাকৃতিক কিছু শান্ত শব্দের মাঝেও শান্তি খুঁজে পান। তাই এধরণের শব্দ, রিলাক্সেশন মিউজিক এবং মেডিটেশনের মিউজিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

স্মার্টফোনে  এমন অনেক অ্যাপস পাওয়া যায় যেগুলো আপনার জন্য এমন শব্দ তৈরি করতে পারে। আপনি একাধিক শব্দ মিশ্রিত করে প্রশান্ত  মিউজিক নিজে তৈরি করে নিতে পারেন।

পোষা প্রাণীর সংগে সময় কাটান

মাঝেমাঝে পোষা প্রাণীর সংগে সময় কাটালে চাপ মুক্তির  খুব ভালো একটা সেশন উপহার পাওয়া যেতে পারে।

পোষা প্রাণীর সংগে যোগাযোগের মাধ্যমে অক্সিটোসিন  হরমোন নির্গত হয় যা পজেটিভ মুড তৈরির ক্ষেত্রে খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

পোষা প্রাণীর সাথে খেলাধূলা করলে ও সময় কাটালে আপনার মনে প্রাণীটির  জন্য হলেও ভালো  থাকার একটা লক্ষ্য গঠিত হয়, আপনাকে আরো সক্রিয় করে তোলে এবং আপনার মানসিক চাপ অনেকখানি কমে যায়। 

এভাবেই মানসিক চাপের সাথে যুদ্ধে আপনার জয় হোক। বুকে কষ্ট চেপে রাখা এবং গোপন কান্নাকে পাঠিয়ে দিন দূরে কোথাও।

The cookie settings on this website are set to 'allow all cookies' to give you the very best experience. Please click Accept Cookies to continue to use the site.
You have successfully subscribed!
This email has been registered